করোনায় কমিউনিটি সেন্টারগুলোর অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বেকার

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

করোনায় কমিউনিটি সেন্টারগুলোর অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বেকার

 

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান :-

 

 

করোনায় বন্ধ হয়ে গেছে নগরীর দেড়শ’ কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হল। এ কারণে হল মালিকসহ এ পেশায় জড়িত শ্রমিক, বয়, ক্রোকারিজ ধোয়ার লোক, বাবুর্চিসহ অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ গত দুই মাস ধরে বেকার। কাজ না থাকায় তাদের অভাবে দিন কাটছে। এ অবস্থায় প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি করেছে কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হল মালিকরা।

 

সামাজিক, ধর্মীয়সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হল প্রতিনিয়ত লোকে জমজমাট থাকলেও এগুলো এখন মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছে। সিকিউরিটি গার্ডরা দুই মাস ধরে এগুলো পাহারা দিয়ে রেখেছেন। কোন আয় নেই। প্রতি মাসে আর্থিক ক্ষতি গুনছেন মালিকরা।

 

ইডেন কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী সাজেদুল আলম চৌধুরী মিল্টন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হলে ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু করোনার কারণে সকল কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন সেন্টার বন্ধ থাকায় এই সব ব্যবসায়ীরা আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। ব্যবসার সাথে জড়িত শ্রমিক, বয়, ক্রোকারিজ ধোয়ার লোক, বাবুর্চি, বাবুর্চি সহকারী, মরিচ বাটা লোকসহ অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ গত দুই মাস ধরে বেকার। কোন রকম কাজ কর্ম নেই। কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তারা।

 

হক সেভেন ইলেভেন কনভেনশন সেন্টার স্বত্বাধিকারী কুমার রঞ্জন দাশ গুপ্ত বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টার ও হল ভাড়া দিয়ে আমাদের সব ধরনের ব্যয় নির্বাহ হয়। কিন্তু করোনার কারণে বন্ধ থাকায় এ শিল্পের সাথে জড়িত সবাই এখন বেকার। তারা অসহায় অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছে। তাছাড়া হলের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সাজসরঞ্জামাদি দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশ সেন্টার ব্যবসায়ীরা সামাজিকভাবে সমাজের মানুষকে যেমন সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তেমনি সরকারের কোষাগারে ও নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

 

করোনার কারণে মার্চ থেকে সকল কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন হল বন্ধ রয়েছে। এ শিল্পের সাথে জড়িত অর্ধ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। তাতে ধস নেমেছে ব্যবসায়। স্থায়ী স্টাফদের খরচ বহনে কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসায়ীরা অনেকটা অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

 

ব্যবসা বন্ধের কারণে পরিবার পরিজন নিয়েও কষ্টের মধ্যে পড়েছেন।চট্টগ্রাম কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতি সভাপতি হাজী মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই মাস ধরে চট্টগ্রাম শহরের দেড়শ’ কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন সেন্টার বন্ধ। এতে বেকার হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

 

বর্তমানে প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টারের অফিস ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ড, সুইপার, ইলেক্ট্রিশিয়ান ইত্যাদির বেতন, পানি ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিপরীতে প্রতি মাসের হল ভাড়া বাবদ বিরাট অংকের টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিটি কমিউিনিটি সেন্টার ও কনভেনশন সেন্টারের ব্যবসায়ী মালিকরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

করোনায় এই শিল্পের প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা ছাড়া কমিউনিটি সেন্টারের মালিকদের ঠিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ