আনোয়ারায় শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে চাপ দিচ্ছে স্কুল

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

আনোয়ারায় শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে চাপ দিচ্ছে স্কুল

খালেদ মাহামুদ হাসান,চট্রগ্রাম আনোয়ারা প্রতিনিধিঃ

আনোয়ারায় সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে নিষিদ্ধ গাইড বই কেনার জন্য বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

 

স্কুল থেকে শিক্ষকদের নির্ধারণ করে দেওয়া বুকলিস্ট অনুযায়ী নির্দিষ্ট গাইড বই ক্রয় না করলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রেখে মারধর করা হচ্ছে বলেও জানান ঝিওড়ী ঝি বা শি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেক স্কুলে শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুযায়ী বই না কিনলে পরীক্ষায় নাম্বার কম দেয়ার ঘোষণা ও দিয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ারার অধিকাংশ স্কুল গুলোতে বিভিন্ন প্রকাশনীর রিপ্রেজেন্টেটিভের সাথে চুক্তি করে শিক্ষক নেতারা সিন্ডিকেট করে স্কুলে বুক লিস্ট দিয়ে নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কোন স্কুল কোন গাইড বই ব্যবহার করতে পারবে।

শিক্ষকরা ক্লাসে বুকলিস্ট দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট প্রকাশনার গাইড, ইংরেজি গ্রামার ও বাংলা ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। এবং বইগুলো কোন লাইব্রেরী থেকে কিনতে হবে সেটিও নির্ধারণ করে দিচ্ছেন স্কুল শিক্ষকরা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঝি বা শি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুল থেকে পাঞ্জেরী গাইড বই কেনা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। পাঞ্জেরী কোম্পানির গাইড বই ক্লাসে না নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দিচ্ছেন শিক্ষকরা। তাই বাধ্য হয়ে পাঞ্জেরী গাইড কিনতে হয়েছে।

 

কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসে পাঞ্জেরী কোম্পানির বুক লিস্ট দিয়ে নগরীর আন্দরকিল্লা জনতা বুক হাউস লাইব্রেরী থেকে গাইড বই কিনতে বাধ্য করে দেয়া হয়েছে।

 

ক্রেতা সেজে নগরীর আন্দরকিল্লা জনতা বুক হাউস ও শিক্ষকদের নির্ধারণ করে দেয়া অন্য লাইব্রেরীগুলোতে বই কিনতে গেলে প্যাকেজ বই ছাড়া খুচরা কোন বই বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা। খুচরা বই বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে খুচরা বই বিক্রি না করার জন্য।

 

ঝি বা শি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে জানতে রবিবার দুপুর ২ টায় বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক এজাহার উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি এবং অন্য শিক্ষকরা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফেরদৌস হোসেন বলেন, শুনেছি বিভিন্ন স্কুলে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষক নেতাদের সাথে কথা বলেছি। শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ